MASIGNASUKAv102
6510051498749449419

বিষয়ভিত্তিক-হাদিস :আল্লাহ কোথায়? :part 8

বিষয়ভিত্তিক-হাদিস :আল্লাহ কোথায়? :part 8
Add Comments
Thursday, 9 July 2020
পরিচ্ছেদঃ ১৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - (যিহারের কাফফারা ও মু’মিনাহ্ দাসী মুক্তি প্রসঙ্গে)

অনুচ্ছেদটি উদ্ধৃত করে মুসান্নিফের উদ্দেশ্য হলো, হাদীস দ্বারা এ কথা প্রমাণ করা যে, যিহারের কাফ্ফারায় আযাদকৃত দাস বা দাসী মু’মিন হওয়া আবশ্যক। উসূলে ফিকহে মুতলাক তথা শর্তবিহীন হুকুমকে শর্তযুক্ত করার উসূল বা নীতিতে এর বিশদ আলোচনা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদের অধীনের হাদীসটি কুরআনের মুতলাক বা যিহারের কাফ্ফারার শর্তমুক্ত হুকুমকে ঈমানের শর্তে শর্তযুক্ত করার প্রমাণ বহন করে, এতে কোনো দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। তবে মুকাইয়াদ অর্থাৎ শর্তটি কি এভাবে নির্ধারিত যে, ভুলে হত্যার কাফ্ফারার মতো ঈমানদার ছাড়া আযাদ করলে আদায় হবে না, নাকি উত্তমের বর্ণনা- এতে মতভেদ রয়েছে। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। ২৯৯৯ নং হাদীসের ব্যাখ্যায় এর কিছুটা আলোচনা করা হয়েছে। (সম্পাদক)

৩৩০৩-[১] মু‘আবিয়াহ্ ইবনুল হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম- হে আল্লাহর রসূল! আমার জনৈকা দাসী আমার মেষ পাল চরাত। অতঃপর একদিন আমি মেষ পালের নিকট গিয়ে দেখি, একটি মেষ নেই। দাসীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলেছে। এতে আমি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলাম এবং আমি অতি সাধারণ মানুষ, তাই (ধৈর্য ধরতে না পেরে) তার গালে এক চড় মেরে দিলাম। অতঃপর আমি বললাম, (কোনো এক কারণে) আমার ওপর একজন দাস বা দাসী মুক্ত করা শারী‘আতের বিধানুযায়ী জরুরী হয়ে আছে (যা এখনও করিনি), এমতাবস্থায় উক্ত দাসীকে তার স্থলে মুক্তি দান করলে কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন- বলো তো আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশমন্ডলীতে। আবার জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো! আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (মু‘আবিয়াহ্কে) বললেন, হ্যাঁ, তুমি ওকে মুক্ত করতে পার। (মুয়াত্ত্বা মালিক)[1]
মুসলিম-এর বর্ণনায় আছে, সে [মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)] বলল, আমার এক দাসী উহুদ পাহাড় ও জাও্ওয়ানিয়্যাহ্-এর অঞ্চলে মেষ পাল চরাত। একদিন আমি তার কাছে গিয়ে দেখলাম যে, আমাদের একটি মেষ নেকড়ে বাঘ নিয়ে চলে গেছে। আমি অতি সাধারণ মানুষ বিধায় তাদের মতো আমিও ক্রোধ সংবরণ করতে ব্যর্থ হয়ে তাকে চপেটাঘাত করে ফেলি। অতঃপর আমি (ভারাক্রান্ত হৃদয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এতদসম্পর্কে বর্ণনা করলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার এ কাজকে গুরুতর অন্যায় বলে মনে করলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি ওকে মুক্ত করতে পারব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশমন্ডলীতে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হ্যাঁ, ওকে মুক্ত করতে পার। কারণ, সে মু’মিনাহ্।

بَابٌ [فِىْ كَوْن الرَّقَبَةِ فِى الْكَفَّارَة مُؤمنَة]
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! إِنَّ جَارِيَةً كَانَتْ لِى تَرْعٰى غَنَمًا لِىْ فَجِئْتُهَا وَقَدْ فَقَدَتْ شَاةً مِنَ الْغَنَمِ فَسَأَلْتُهَا عَنْهَا فَقَالَتْ : أَكَلَهَا الذِّئْبُ فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا وَكُنْتُ مَنْ بَنِىْ اٰدَمَ فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَىَّ رَقَبَةٌ أَفَأُعْتِقُهَا؟ فَقَالَ لَهَا رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَيْنَ اللّٰهُ؟» فَقَالَتْ : فِى السَّمَاءِ فَقَالَ : «مَنْ أَنَا؟» فَقَالَتْ : أَنْتَ رَسُوْلَ اللّٰهِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَعْتِقْهَا». رَوَاهُ مَالِكٌ
وَفِىْ رِوَايَةِ مُسْلِمٍ قَالَ : كَانَتْ لِىْ جَارِيَةٌ تَرْعٰى غَنَمًا لِىْ قِبَلَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ فَاطَّلَعْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِنَا وَأَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِىْ اٰدَمَ اٰسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ لَكِنْ صَكَكْتُهَا صَكَّةً فَأَتَيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ فَعَظَّمَ ذٰلِكَ عَلَىَّ قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! أفَلا أُعتِقُها؟ قَالَ : «اِئْتِنِىْ بِهَا؟» فَأَتَيْتُه بِهَا فَقَالَ لَهَا : «أَيْنَ اللّٰهُ؟» قَالَتْ : فِى السَّمَاءِ قَالَ : «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ : أَنْتَ رَسُوْلُ الله قَالَ : أَعْتِقْهَا فإنَّهَا مُؤْمِنَةٌ